logo
20 October, 2025 / By Dr. Shamim Arman Khan

বাচ্চাদের মস্তিষ্কের পরিচর্যা

শিশুর মস্তিষ্ক জন্মের পর থেকেই দ্রুত বিকশিত হতে থাকে। জন্মের প্রথম পাঁচ বছরেই তার মস্তিষ্কের প্রায় ৯০% বৃদ্ধি ঘটে। তাই এই সময়টা শুধু খাবার ও ঘুমের নয় — বরং মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক যত্নের সময়। বাচ্চার চিন্তা, শেখা, অনুভব করা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা গড়ে ওঠে তার আশপাশের পরিবেশ, ভালোবাসা এবং পরিচর্যার মাধ্যমে।

একটি শিশুর সবচেয়ে বড় প্রয়োজন নিরাপত্তা ও ভালোবাসা। যখন মা-বাবা নিয়মিত হাসিমুখে কথা বলেন, কোলে নেন, গান শোনান — তখন শিশুর মস্তিষ্কে অক্সিটোসিন ও ডোপামিন নামের “হ্যাপিনেস হরমোন” নিঃসৃত হয়। এগুলো তার স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও শেখার আগ্রহ বাড়ায়। 💡 তাই নিয়মিত শিশুর সঙ্গে কথা বলো, চোখে চোখ রেখে হাসো, তাকে গল্প বলো — এগুলোই তার মানসিক বিকাশের ভিত্তি।

খেলাই শিশুর সবচেয়ে প্রাকৃতিক শেখার উপায়। ব্লক, পাজল, রং করা, গল্প সাজানো— এসব খেলা তার সমস্যা সমাধান, মনোযোগ ও সৃজনশীল চিন্তা বাড়ায়। যেসব খেলায় হাত ও চোখ একসাথে কাজ করে (যেমন ব্লক দিয়ে ঘর বানানো, বল ছোড়া), সেগুলো মস্তিষ্কের সংযোগ আরও শক্ত করে। এছাড়া বাইরে খেলা, দৌড়ানো বা প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো শিশুর মানসিক শান্তি ও ফোকাস বাড়ায়।

বাচ্চার সামনে বই রাখো, রঙিন গল্প শোনাও, তাকে প্রশ্ন করতে দাও। যখন সে নতুন কিছু শেখার আগ্রহ প্রকাশ করে, তাকে প্রশংসা করো — এতে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। স্কুলের পড়াশোনার পাশাপাশি জিজ্ঞাসু মন বজায় রাখাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মনে রেখো, শিশু শেখে “কীভাবে শেখা যায়” সেটি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে।


চিৎকার, রাগ, চাপ বা ভয় — এগুলো শিশুর মস্তিষ্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শান্ত, ভালোবাসায় ভরা পরিবেশে শিশু নিরাপদ বোধ করে, ফলে তার শেখার ক্ষমতা বেড়ে যায়। প্রতিদিন কিছু সময় পরিবারের সবাই মিলে হাসিখুশি কাটাও — গান শোনা, গল্প বলা, একসাথে খাওয়া— এগুলোই শিশুর মানসিক শক্তি গড়ে তোলে।


শিশুর মস্তিষ্কের যত্ন মানে শুধু তার পড়াশোনা নয় — বরং তার অনুভূতি, খাবার, ঘুম, খেলাধুলা ও সম্পর্ক— সব কিছুর যত্ন। প্রথম পাঁচ বছর তার ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি করে। তাই এখন থেকেই শুরু করো ছোট ছোট পদক্ষেপ — ভালোবাসা, নিরাপত্তা, শেখার আনন্দ আর একটুখানি যত্নই পারে তোমার শিশুর মস্তিষ্ককে সঠিকভাবে বিকশিত করতে।